হ্যান্ডস-অন রিভিউ: Symphony Roar A50 অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান

সফটওয়্যার

symphony android one kitkat roar a50

Symphony Roar A50 অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান এর সফটওয়্যার নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। এই ফোনটি নিয়ে এতো কথাবার্তা হওয়ার একমাত্র কারণই এর নিয়মিত আপডেট। এখন পর্যন্ত বাজারে আসা সব অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোনের মতোই সিম্ফনি রোর এ৫০ অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান-এও চলছে অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪.৪ কিটক্যাট। তবে ইতিমধ্যেই গুগল ইন্দোনেশিয়ার অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোনগুলোয় অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। যার অর্থ হলো শিগগিরই নতুন অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ পেতে যাচ্ছে সিম্ফনির এই অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোন।

গুগল জানিয়েছে, বাজারে আসার পর থেকে অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান স্মার্টফোনগুলো টানা ২ বছর পর্যন্ত অ্যান্ড্রয়েডের আপডেট পাবে। অনেকের কাছেই দুই বছর খুব একটা লম্বা সময় মনে না হলেও, আসলে স্মার্টফোন জগতের জন্য আর বিশেষ করে কমদামী ফোনের জন্য দুই বছরই অনেক বড় পাওনা!

ইন্টারনেট, নেটওয়ার্ক, অন্যান্য

ভালো ডিসপ্লে ও টাচ রেসপন্সের জন্য Symphony Roar A50 অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোনে ওয়েব ব্রাউজিং বেশ ভালো অভিজ্ঞতা। এতে ক্রোম ব্রাউজারসহ গুগলের পুরো অ্যাপ্লিকেশন স্যুটই ইন্সটল করা রয়েছে। বাড়তি অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে স্কাইপও ইন্সটল করা রয়েছে এতে। পাশাপাশি আছে সিম্ফনির নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন যেখান থেকে তাদের কাস্টোমার কেয়ারে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যাবে।

ডুয়েল-সিম ফোনটির দু’টি সিম কার্ড স্লটই মাইক্রো-সিম সমর্থিত। এতে করে অনেক ব্যবহারকারীকেই তাদের সিমকার্ড আগে কাটতে হবে। তবে দু’টো সিম কার্ড স্লটই ৩জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে, যা একটি ভালো বিষয়। নিচের স্ক্রিনশটগুলোতে দেখতে পাবেন টেলিটক ৩জি সিম ব্যবহার করে দু’টো সিম স্লটেই ৩জি নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্রাউজিং করা হচ্ছে।

symphony roar a50 3g

সিম্ফনির নতুন ফোনটিতে আপনার প্রয়োজন এমন প্রায় সব সেন্সরই রয়েছে। লাইট সেন্সরের কথা আগেই বলা হয়েছে। রয়েছে অ্যাক্সেলেরোমিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও জিপিএস। জিপিএস যথেষ্ট দ্রুত কাজ করে। ঘরে বসে থাকলেও গুগল ম্যাপসের মাধ্যমে প্রায় ১০০% অ্যাকুরেসিতে লোকেশন ডিটেক্ট করতে পারে। আর বাইরে খোলা জায়গায় গেলে জিপিএস বেশ দ্রুত লক হয়ে যায় আর ডিভাইসের বর্তমান অবস্থান দেখাতে পারে।

তবে ইতিমধ্যেই যারা সিম্ফনি রোর এ৫০ ব্যবহার করছেন, তাদের অনেকেই ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা আমাদের জানিয়েছেন। আর আমিও তাদের সঙ্গে একমত। সিম্ফনির ফোনটি প্রায় সব দিক দিয়ে পারফেক্ট হলেও যে কয়েকটি বিষয়ে অভাব রয়ে গেছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যাটারি ব্যাকআপ।

তবে তাই বলে একেবারেই যে খারাপ ব্যাটারি ব্যাকআপ তা-ও বলা যাবে না। সাধারণ ব্যবহারে একদিনের কিছু বেশি ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব। আর কিছুক্ষণ পরপর স্ক্রিন অন করলে আর ৩জি নেটওয়ার্কে কানেক্টেড থাকলে একদিন পুরো ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়াও কষ্টকর হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না, কেননা ব্যাটারি ব্যাকআপ অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে। কিন্তু সার্বিকভাবে বলা যায় যে, ব্যাটারি ব্যাকআপ আরেকটু ভালো হতে পারতো।

শেষ কথা

আপনি যদি এই ২,৫০০ শব্দের রিভিউ পড়ে থাকেন, তাহলে এতোক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন, এই দামে সিম্ফনি রোর এ৫০ নি:সন্দেহে একটি ভালো ডিভাইস। কয়েকটি খারাপ দিক ছাড়া ফোনটি এই বাজেটে যারা ফোন কিনতে চাচ্ছেন আর অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ থেকে বঞ্চিত হতে চান না, তাদের জন্য এটি হতে পারে সেরা ডিভাইস। এই দামের মধ্যেই হয়তো খুঁজলে এর চেয়ে ভালো ফোন পাওয়া যাবে, কিন্তু সেই ফোনে কি অ্যান্ড্রয়েডের আপডেট পাওয়া যাবে তার নিশ্চয়তা রয়েছে?

সিম্ফনি রোর এ৫০ অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান ফোনের এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।

ভালো দিক

  • দারুণ বিল্ড কোয়ালিটি
  • হালকা ওজন, ধরতে আরামদায়ক
  • দারুণ ডিসপ্লে ও টাচ রেসপন্স (স্ক্রিন প্রটেক্টর পেপারের উপর নির্ভরশীল)
  • স্মুথ ও ল্যাগবিহীন অপারেশন
  • দারুণ গেমিং পারফরম্যান্স
  • ডুয়াল সিম কার্ড স্লট যার দু’টোই ৩জি নেটওয়ার্ক সাপোর্টেড
  • নোটিফিকেশন এলইডি লাইট
  • অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান; অর্থাৎ আপডেট নিশ্চিত

খারাপ দিক

  • সাপ্লাইড হেডফোনের কোয়ালিটি খারাপ
  • ক্যামেরা কোয়ালিটি মোটামুটি
  • ব্যাক কভার অতিরিক্ত পাতলা
  • স্ক্রিন লক অ্যানিমেশন অনেকের কাছে বিরক্তির মনে হতে পারে
  • ব্যাটারি ব্যাকআপ কম

আপনার কী মত?

এতক্ষণে নিশ্চয়ই সিম্ফনি রোর এ৫০ ফোন নিয়ে ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। এবার আপনি জানান আপনার কী মতামত। সিম্ফনির নতুন এই ফোন যারা ইতিমধ্যেই ব্যবহার করছেন, তারাও আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। আর এমনই নতুন সব ফোনের রিভিউ, অ্যাপ্লিকেশন ও গেমস রিভিউ পড়ার জন্য অ্যান্ড্রয়েড কথনের ফেসবুক পেজের সঙ্গেই থাকুন