
প্রযুক্তির বিবর্তনে আমাদের অনেকেরই বই পড়া অভ্যাসে পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এখন মোবাইল ডিভাইস বা ট্যাবলেট কম্পিউটারে ডিজিটাল ফরম্যাটে বই পড়ি। ২০১০ সালে আইপ্যাডের আবির্ভাবের পর ট্যাবলেট কম্পিউটারের জনপ্রিয়তা বাড়ে এবং স্যামসাং, অ্যামাজন, এইচটিসি, মটোরোলা, সনি ইত্যাদি কোম্পানি তাদের ট্যাবলেট কম্পিউটারের রেঞ্জগুলো সমৃদ্ধ করে যাদের অন্যতম ব্যবহার হয় বই পড়ার জন্যে। ২০১২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমেরিকার ৩১% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ট্যাবলেট পিসি ব্যবহার করেন। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বেশ কিছু ইবুক ফরম্যাট সাপোর্ট করে বলে দিনে দিনে মোবাইলে ই-বুক পড়ার চল বাড়ছে।
ই-বুক ফরম্যাট:
বিভিন্ন কোম্পানী তাদের নিজস্ব ফরম্যাটে ই-বুক প্রকাশ করে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছে। তবে এর ফলে স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়নি। ১৯৯০ সালে একটি কনসোর্টিয়াম ওপেন ই-বুক নামে একটি ফরম্যাট জনপ্রিয় করার চেষ্টা করে। পরে গুগল বুকস নামে একটি ফরম্যাট ব্যবহার করা শুরু করে গুগল এবং অনেক পাবলিক ডোমেইনের (স্বত্ববিহীন) বই এই ফরম্যাটে রূপান্তর করে অনলাইনে ছেড়ে দেয়। নীচের টেবিলে বিভিন্ন রিডারে কোন কোন ফরম্যাট সাপোর্ট করে তা দেখানো হয়েছে (সূত্র উইকিপিডিয়া):
উপরের টেবিলে দেখা যাচ্ছে যে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম কি কি ফরম্যাট সাপোর্ট করে।
ই-বুক রিডার অ্যাপস:
আপনারা নিশ্চয়ই জনপ্রিয় ই-বুক রিডার আমাজনের কিন্ডল বা বার্নস এন্ড নোবলসের নুক ইত্যাদির নাম শুনেছেন। এখন কিন্তু তাদের ই-বুক রিডার ডিভাইস না কিনেও তাদের ব্যবন্থাপনায় বিক্রি এবং বিনামূল্যে বিতরণকৃত হাজারো বই পড়তে পারবেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন বা ট্যাবলেটের সাহায্যে। এজন্যে কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ আছে তাদের নিয়ে আলাপ করব। তবে বাংলাদেশে এসব ব্যবহারে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। গুগল বুকস, কিন্ডল বা নুক এখনও বাংলাদেশের জন্যে উন্মুক্ত নয়। তবে বেশ কিছু ভাল বুক রিডার আছে যার থেকে আপনার পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন।
কিন্ডল:
স্বল্পমূল্যের অ্যামাজন কিন্ডল বুক রিডার এর জনপ্রিয়তার কারনে কিন্ডল অ্যাপস ও অ্যান্ড্রয়েড প্রেমীদের অনেকের পছন্দ। কিন্ডল ফায়ার রিডারের প্রায় সব সুবিধাই আপনারা এই অ্যাপ্লিকেশনে পাবেন। বিপুল সংখ্যক বইয়ের পাশাপাশি এতে পাবেন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিন। উল্লেখযোগ্য ফিচারের মধ্যে আছে বিল্ট-ইন ডিকশনারী, গুগল সার্চ এবং উইকিপিডিয়া অ্যাক্সেস।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ কিন্ডল
গুগল বুকস:
অনলাইনে পর্বতসম গুগলের রয়েছে নিজস্ব গুগল বুকস অ্যাপ। প্রায় ত্রিশ লাখ ই-বুক রয়েছে তাদের ডেটাবেসে। তাদের রয়েছে প্রচুর স্বত্ববিহীন বই যা বিনামূল্যে নামিয়ে পড়া যায়।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ গুগল বুকস
নুক:

বার্নস এন্ড নোবল কিন্ডলের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে তাদের নুক ই-রিডারের সুবিধা দিচ্ছে। তাদের রয়েছে প্রায় ২০ লাখ বইয়ের সম্ভার।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ নুক
ওয়াটপ্যাড:
ওয়াটপ্যাড সাধারণ ই-বুক রিডার অ্যাপ নয়। এটি হচ্ছে লাখেরও বেশি ডিজিটাল বইয়ের একটি আর্কাইভ যা বিভিন্ন অপেশাদারী লেখক লিখেছেন এবং তা বিনামূল্যে প্রকাশিত হচ্ছে।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ ওয়াটপ্যাড
ইক্যারেল:
তথ্য-প্রযুক্তিবিদদের পছন্দ এই অ্যাপটি কারন এতে পাবেন প্রোগ্রামিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তি নিয়ে ই-বুক।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ ইক্যারেল
কোবো:
এটি আমার ব্যক্তিগত পছন্দ। যদি আপনি বিনামূল্যে বই পড়তে চান তবে কোবো হবে আপনার প্রথম পছন্দ। প্রায় দশলাখের বেশী বই বিক্রি করলেও এদের বিনামূল্যে দেয়া বইয়ের সংখ্যা ১৮ লাখের উপর। এর উল্লেখযোগ্য ফিচার হচ্ছে রিডিং লাইফ নামে একটি ফিচার যা আপনার বই পড়ার উপাত্ত রাখবে এবং তা সামাজিক মিডিয়াতে (যেমন ফেইসবুকে) প্রচার করা যাবে। উল্লেখযোগ্য উক্তি বা বই থেকে উদ্ধৃতি সহজেই ফেইসবুক স্ট্যাটাসে শেয়ার করা যায়। এখানে জেডিনেটের একটি রিভিউ রয়েছে কোবো নিয়ে।
গুগল প্লে স্টোর লিংকঃ কোবো
আপনারা যদি অন্যান্য ই-বুক রিডার অ্যাপস দেখতে চান তাহলে মোবাইল রিডস এর এই তালিকা থেকে পছন্দ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে আপনার বই পড়া আনন্দদায়ক হোক।
আপনি কি ইতোমধ্যেই অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ইবুক পড়ছেন? আপনার পছন্দের অ্যাপ্লিকেশনটির কথা আমাদের জানাতে ভুলবেন না।


আমার পছন্দ ওয়াটপ্যাড। যদিও আমার ৩” স্ক্রিনে কোনো ইবুক পড়ার ঝামেলায় যাই না আমি, তবে ওয়েবে ওয়াটপ্যাডে কিছু গল্প পড়েছি। আমার মতে স্বাধীন ও নবীন লেখকদের জন্য বেস্ট জায়গা ওটা। অনেক নবীন লেখকই খুব ভালো ভালো গল্প লিখেন ওখানে। এছাড়াও সাইটটার ডিজাইনও বেশ সুন্দর। wattpad.com-এ অ্যাকাউন্টও করেছিলাম কিন্তু পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় আর পড়া হয়নি।
ধন্যবাদ রেজওয়ান ভাই দারুণ পোস্টটার জন্য। 🙂
আমার কাছে এই পর্যন্ত Moon+Reader আর Aldiko Book Reader ই বেস্ট মনে হচ্ছে। এই দুট ইউস করে খুব মজা পাচ্ছি 🙂 আর গুগল বুকস সাপোর্ট করছেনা।
একটাও দেখি এখানে নাই। :-/ আমি ট্যাব কেনার আগ পর্যন্ত ইবুক টি-বুক পড়তে পারবো না। 🙁 ৩” স্ক্রিনে ইবুক পড়ে আরাম নেই। দেখি কবে ট্যাব কেনা হয়।
ভাই, বাংলা ই-বুক এর জন্য কোন সফটওয়্যার নাই ? আমি আবার ইংরেজিতে একটু দুর-বল (!), যদি কারও জানা থাকে তাহলে বলবেন। ধন্যবাদ।
বাংলা ইবুকের জন্য আলাদা সফটওয়্যার লাগবে কেন? উপরের চার্টে যে সাপোর্টেড ফরম্যাটগুলো আছে, এসব ফরম্যাটে বাংলা বই জোগাড় করতে পারলেই হবে। আপনার মোবাইল যদি বাংলা ফন্ট সাপোর্ট করে, তাহলে এমনিতেই বাংলা ইবুক পড়া যাবে।
এইখানেই তো কবি নিরব……এই ফরম্যাটের বাংলা বই কই পাবো? নেটে যে সব বই আছে তার প্রায় সবই স্ক্যান করা, কোয়ালিটি খুবই খারাপ। এই ধরনের বই আমোর কাছে প্রায় ২৫০+ আছে। এই বইগুলো মোবাইলে পড়তে গেলে তো লেখা এত ছোটো আসে যে ঠিকমতো পড়া যায় না। এই জন্যই বলছিলাম যে ইংরেজি বই এর মতো যদি বাংলা বইও সফটওয়্যার দিয়ে সার্চ করে পড়া যেত ও ডাউনলোড করা যেতো তাহলে খুবই ফাটাফাটি হতো।
তা তো হতোই, কিন্তু তার আগে তো বই থাকতে হবে তাই না? বই-ই নেই, অ্যাপ্লিকেশন থেকে কী হবে।
যাক কিছু এপ পাওয়া গেল , আচ্ছা প্লেয়ার কোনটা ভালো ?
Symphony T7 Tablet e google googles ta install dilam. chokher samne ja pelam tar 98% identify korte pare. :p
ইবুক রিডার হিসাবে এন্ডয়েড ট্যাব গুলো খুব ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। যদিও লেখাপড়ার ব্যপারে আমাদের দেশে টেক ব্যবহার কম, কিন্তু এই সময় পরিবর্তনের সময় এসেছে।
নিজের সাবজেক্ট এর কথা বলি, মেডিকেল , ডাক্তার হওয়ার পর যেনো পড়াশুনা আগের থেকে বেড়ে গেছে মনে হয়! আর সব সময় এই ভারী ভারী বই কয়টা বহন করে নেয়া সম্ভব?? এই জন্য ট্যাব আর ইবুক এর প্রচলন অনেক বেড়েছে। সব বই সাথে নিয়ে মুভ করছেন, যখন যেটা লাগছে পড়ছেন, আবার নিজেদের মধ্যে নতুন বই শেয়ার করে নিয়ে পুরা লাইব্রেরি নিয়ে ঘোরার মত ব্যপার।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে যে রিডার পছন্দ করি – ezPDF reader. যেহেতু বই দাগিয়ে আর মার্কিং করে পড়া যায়, (প্রো) এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের। আর .chm বই গুলার জন্য ব্যবহার করি সিএইচ এম রিডার।
আমি কেনার সময় ভেবেছিলাম ইবুক পড়ে উল্টে ফেলবো কিন্তু এখন একটা বইও শেষ করা হয়নি। :v :v
বাংলাদেশের প্রকাশনা সংস্থাগুলি কবে যে ইবুকের গুরুত্ব বুঝবে………